বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

এই ৬ দোয়া জুমার দিনে বেশি পড়ুন

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
f

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনকে কেন্দ্র করে কোরআন ও হাদিসে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা এবং বহু আমলের নির্দেশনা। এর অন্যতম হলো আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা। কারণ সহিহ হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সে সময় কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ এরপর তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, সময়টি খুবই অল্প। (সহিহ বুখারি: ৬৪০০; সহিহ মুসলিম: ৮৫২)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সেই সময়টি তোমরা আছরের পরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮; সুনানে তিরমিজি: ৪৮৯)

অনেক মুহাদ্দিস ও ফকিহের মতে, জুমার দিন আছরের পর সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের সম্ভাবনাময় সময়গুলোর একটি।

নিচে জুমার দিনে বেশি বেশি পড়ার জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো।

১. দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বোত্তম কল্যাণের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখেরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আজাবান্নার।

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন, আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা বাকারা: ২০১)

২. হেদায়াত, তাকওয়া ও সচ্ছলতার দোয়া

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা কামনা করছি।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭২১)

৩. মা-বাবা ও সব মুমিনের জন্য ক্ষমার দোয়া

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ: রব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে সেই দিন ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪১)

৪. সাইয়িদুল ইস্তেগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ..

অর্থ (সংক্ষেপে): ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।’

রাসুলুল্লাহ (স.) এটিকে ‘সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার’ বা শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার বলেছেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

৫. দুশ্চিন্তা ও বিপদ থেকে নিরাপত্তার দোয়া

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আজিম।

অর্থ: ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি। তিনিই মহান আরশের অধিপতি।’ (সুরা তাওবা: ১২৯)

৬. দুনিয়া-আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তার দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্ দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনইয়াইয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের জন্য আপনার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।’ সূত্র: (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৪; ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১)

জুমার দিন আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের বিশেষ আশা রয়েছে। তাই এ দিনের মূল্যবান সময়, বিশেষ করে আছরের পর সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টুকু ইবাদত, জিকির, দরুদ ও দোয়ায় অতিবাহিত করা একজন মুমিনের জন্য অনেক কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফজিলত যথাযথভাবে কাজে লাগানোর এবং বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিষয়: