ই-পেপার

গর্ভাবস্থায় নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস: কী খাবেন, কী খাবেন না

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ |

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময় মায়ের খাদ্যাভ্যাসের ওপর গর্ভের শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করে। তাই আলাদা কোনো বিশেষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ না করলেও প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ জরুরি

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এটি গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান

মিষ্টি, কোমল পানীয়, চকলেট, কেক, বিস্কুট, আইসক্রিম এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব খাবার অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

প্রতিদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, বাদাম ও শিমজাতীয় খাবার রাখুন। তবে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাংস ও ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

দুইজনের জন্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী খান

গর্ভাবস্থায় বেশি খেতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ক্ষুধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার খাওয়াই যথেষ্ট। নিয়মিত সকালের নাশতা খেলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহও কমে।

পরিচ্ছন্নভাবে খাবার প্রস্তুত করুন

খাবার তৈরির আগে ফল, শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কাঁচা মাংস, মাছ বা ডিম ব্যবহারের পর হাত ও রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার করুন। সব ধরনের খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।

শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দেবেন না

ভাত, রুটি, ওটস, ভুট্টা, আলু ও পাস্তার মতো শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। সম্ভব হলে লাল চাল, আটার রুটি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন।

ক্ষুধা লাগলে স্বাস্থ্যকর নাশতা

মূল খাবারের মাঝখানে ক্ষুধা লাগলে ফল, দই, সবজির স্যুপ, অল্প পরিমাণ বাদাম, দুধ বা ডালের মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন।

সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ

মাছ প্রোটিন ও ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তৈলাক্ত মাছ সপ্তাহে দুইবারের বেশি না খাওয়াই ভালো।

প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি

প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ভাগ ফল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের চাহিদা পূরণ করে এবং হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ডিম ও দুধজাতীয় খাবার

ডিম, দুধ, দই ও পনির ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম না খাওয়াই নিরাপদ। কম চর্বিযুক্ত দুধজাতীয় খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

সুস্থ গর্ভাবস্থার মূলমন্ত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ গর্ভাবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সব খবর

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031