বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

মেসির হাতে কি উঠবে নবম ব্যালন ডি’অর?

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬, 8:58 পিএম | ফটো কার্ড |

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণ শুরুর আগেই সুসংবাদ পেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। খোদ ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিততে হলে এখন আর ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ফলে আমেরিকার ইন্টার মায়ামিতে খেললেও মহাতারকা লিওনেল মেসির ঝুলিতে নবম ব্যালন ডি’অর ওঠার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত ও মসৃণ রইল।

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ের পর বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। 

ঠিক এমন এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তে ব্যালন ডি’অর আয়োজক এক বিবৃতিতে পুরস্কারটি নিয়ে প্রচলিত সমস্ত ধোঁয়াশা দূর করেছে। তাদের এই সবুজ সংকেতের পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের সুবাস।

শুরুর দিকে ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সালে নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও ইউরোপের ক্লাবে খেলার শর্ত বহাল ছিল। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই নিয়ম পুরোপুরি তুলে দেওয়া হলেও ফুটবল বিশ্বে অলিখিত ধারণা ছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা শীর্ষ লিগ ছাড়া এই ট্রফি জেতা অসম্ভব। 

কিন্তু সেই ইতিহাস ও মিথ প্রথম ভেঙেছিলেন মেসি নিজেই। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় নিজের ৮ম ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, রাজপুত্রের জন্য মহাদেশ কোনো বাধা নয়।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানায়, ইউরোপের বাইরে খেলে কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না, তা বোঝার জন্য তারা বিগত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করেছে। 

যেখানে দেখা যায় কাকা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মদরিচ বা বেনজেমারা যখন এই পুরস্কার জিতেছেন, তখন তারা সবাই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবেই খেলছিলেন। কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে মায়ামির হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। 

আয়োজকরা এবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলা ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।

এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতি বিশ্বকাপে তিনি যে ফুটবল খেলছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য ও জাদুকরি! 

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৮ গোল করার পাশাপাশি সর্তীথদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইন্টার মায়ামির হয়ে একের পর এক চমক দেখানোর পর এবার বিশ্বমঞ্চেও প্রায় একাই দলকে টেনে তুললেন টানা দ্বিতীয় ফাইনালের মঞ্চে।

ইতিমধ্যে ১ থেকে ৮টি ব্যালন ডি’অর জিতে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় একা বসে আছেন এলএমটেন। আর এবার চলতি বিশ্বকাপের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চিত, ফাইনালে ভালো করতে পারলে ইউরোপের ফুটবলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইন্টার মায়ামির মেসির হাতেই উঠতে যাচ্ছে নবম ব্যালন ডি’অর।

বিষয়: খেলাধুলা