দেশজুড়ে

নবীগঞ্জে পরীক্ষার খাতা না দেখানোর জেরে কলেজছাত্র তাহসিনকে হত্যা

প্রিন্ট করুন

জাবেদ তালুকদার, নবীগঞ্জে সহপাঠিদের ছুরিকাঘাতে নিহত রাইসুল হক তাহসিন (১৯) হত্যার চারদিন পর গতকাল রবিবার বিকালে ১১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা মাহফুজা সুলতানা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাহসিনের সহপাটি মান্নাকে প্রধান আসামী করে জুয়েল, রিহাত, শাফি, রিমন, জাকির, লাদেন, সাজু, সাজ্জাত, রাতুল ও মওদুদের নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ জন আসামী অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী পরীক্ষার খাতা দেখানো নিয়ে মান্নার সাথে তাহসিনের কথাকাটাকাটি হয়। পরে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে মান্না ও তার সাথীরা তাহসিনের মুখের উপর থু থু ফেলে। এনিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এদিন বিকালে রাজা কমপ্লেক্সের পিছনে তাহসিন ও মাহি চা খেতে গেলে উল্লিখিত আসামীরা তাদেরকে গালিগালাজ করে এবং মারতে উদ্যত হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদেরকে সরিয়ে দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাহসিন ও মাহিন নবীগঞ্জ পৌরসভায় আয়োজিত বইমেলা থেকে ফেরার পথে ওসমানী রোডের চৌদ্দহাজারি মার্কেটের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাহসিন ও মাহিকে মারধোর করে। এসময় তাহসিন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট প্রেরণ করেন। অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে তাহসিন মারা যায়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ জেকে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহত কলেজ ছাত্র তাহসিনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বানিয়াচং উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে তাহসিনের দাফন করা হয়।
এদিকে তাহসিনকে মারধর সংক্রান্ত সিসি টিভি ফুটেজ ও পূর্ব আক্রোশের জের ধরে তাহসিনকে দাফনের আগেই নবীগঞ্জ শহরে দু’গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে নবীগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শুরু হয়েছে নতুন গল্পের। অন্ধকারে চলে যাচ্ছে তাহসিন হত্যাকাণ্ডের মুটিভ।
ওসমানী রোডের এক বাসিন্দা এ প্রতিবেদককে জানান- আমার ছেলেকে স্কুলে দিতে ভয় হয়, এমনকী নিজেই শহরে চলাচল করতে মনে ভয়-ভয় কাজ করে। দুদিন পর পর বাজারে সংঘর্ষ মারামারি, বিশেষ করে তাহসিন নামে যে কলেজ ছাত্রটি খুন হলো এ ঘটনার পর থেকে মনের ভিতরে এক অজানা ভয় কাজ করে, তিনি তাহসিন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন, আমরা এ ঘটনা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নিহত তাহসিনের মা মাহফুজা সুলতানা বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। আশা করছি খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।


Related Articles

Back to top button
Close