দেশজুড়ে

মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালিত

প্রিন্ট করুন

সাজ্জাদ বিন লাল/আব্দুল হামিদ,বানিয়াচং থেকে। বানিয়াচংয়ে মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে মাকালকান্দি গ্রামে নিহতদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ নিবেদনের মধ্যদিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।

এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ প্রথমেই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এজেড এম উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক রিপন চৌধুরী , ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তালুকদার,আওয়ামী নেতা আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্ট তৎকালীন হবিগঞ্জ মহকুমার সার্কিট হাউসে শান্তি কমিটির সঙ্গে পাক-হানাদার বাহিনীর বৈঠকে মাকালকান্দি আক্রমণের নীল নকশা প্রনয়ন করা হয়। সেই মোতাবেক মেজর দুররানির নেতৃত্বে পাক-হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় ১৮ আগষ্ট ভোররাতেই প্রায় ৪০টি নৌকাযোগে মাকালকান্দি আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। দিনটি ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনষা পুজার দিন। যথারীতি গ্রামের চন্ডীমন্দিরে মনষা পুজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পুজারীরা। সকাল ঠিক ৯ টার সময় প্রায় ৪০/৪৫টি নৌকাযোগে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক-হানাদার বাহিনী ঘিরে ফেলে পুরো গ্রামটিকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় আক্রমণ।

চন্ডী মন্দিরের সামনে লাইনে দাঁড় করিয়ে তরণী দাশ, দীনেশ দাশ, ঠাকুরচান দাশ, মনোরঞ্জন দাশ, প্রভাসীনী বালা দাশ, চিত্রাঙ্গ বালা দাশসহ ৪৪ জন নারী সমেত শতাধিক মানুষকে ব্রাশফায়ার করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে-খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তন্মধ্যে নাম পরিচয় সনাক্ত হয় ৭৮ জন নারী-পুরুষের।


Related Articles

Back to top button
Close