দেশজুড়ে

আজমিরীগঞ্জে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

প্রিন্ট করুন


প্রতিনিধি আজমিরীগঞ্জ
আজমিরীগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মসজিদের ফান্ডে দান করার নামে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে লক্ষাধিক টাকা মুল্যের সরকারি গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন মসজিদ কমিটিতে থাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কয়েকজন। রবিবার (২১ আগস্ট) সকালে উপজেলা সদরের কাট বাজারে উক্ত গাছের খরিদদাররা করাত মিলে গাছগুলো কাটার

সময় বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। এর আগে গত বছর একই ভাবে মসজিদের ওযুখানার জায়গা বর্ধনের দোহাই দিয়ে হাসপাতাল ভবনের সামন থেকে কাটা হয় কয়েক লক্ষাধিক টাকা মুল্যের সরকারি গাছ। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পক্ষের দাবি ঝরে পড়া, পঁচা কয়েকটি গাছ বিক্রী করে হাসপাতালের মসজিদ উন্নয়নের জন্য টাকা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিগত কিছুদিন পুর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুড়ের পাড়ে ২টি প্রাচীন বড় আকাশী গাছ হেলে পড়ে। এরপর প্রসুতী ভবনের পিছন থেকে আরো দুটি গাছ কাটেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে নাম মাত্র তিনজন কাঠ ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে নিলামে ৬৪ হাজার ১শত টাকায় গাছ গুলো বিক্রি করেন মসজিদ কমিটিতে থাকা হাসপাতালের কয়েকজন। ভুমি মন্ত্রনালয়ের ২০১৮ সালের ১লা এপ্রিল জারি করা একটি পরিপত্র অনুযায়ী রাজস্ব বিভাগের আওতাধীন পুরাতন মালামাল/গাছ প্রকাশ্যে বিক্রীর জন্য জেলায় জেলা প্রশাসক এবং উপজেলাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে দুটি কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। পরিপত্রের ৪ এ বলা হয়-জরুরী ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগের আওতাধীন পুরাতন মালামাল/গাছ (পরিপক্ষ, ঝরে পড়া এবং মৃত) কাটতে হলে অথবা বিক্রয়ের প্রয়োজন হলে কেবল সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা বিক্রী করতে পারবেন।

তবে উভয় ক্ষেত্রে যথাক্রমে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসককে জরুরী ভিত্তিতে বিক্রয়ের বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে রাখতে হবে এবং স্ব স্ব কমিটির পরবর্তী সভায় তাহা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। একই পরিপত্রের ৫ এ বলা হয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্পুর্ন ঝরে পড়া ও মৃত গাছ কর্তনের চুড়ান্ত অনুমোদনের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের।

এ বিষয়ে নিলামে গাছ ক্রেতা মামুন মিয়া জানান, আমি ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনটি গাছ কিনেছি। আরেক জন ১০ হাজার টাকায় অন্যগুলো কিনেছেন। আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মসজিদের ক্যাশিয়ার এবং স্বাস্থ্য কর্মী জানু মিয়া জানান, স্থানীয় মুসল্লী ও মুরব্বিদের সামনে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ৬৪ হাজার ১ শত টাকা বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি গাছের মালিক স্থানীয় লোকজন কিভাবে হয় জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন বলেন, কিছু পচাঁ গাছ ছিলো এগুলো বিক্রি করে মসজিদ উন্নয়নে দেয়া হয়েছে। গাছ বিক্রি করতে উপজেলা কমিটি কিংবা বন বিভাগের কারো অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা সালেহা সুমী জানান, সরকারী গাছ কাটতে আমাদের অনুমতি প্রয়োজন নেই। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে গাছ কর্তন করা যাবে।


এই বিভাগের সর্বশেষ

Back to top button
Close