দেশজুড়ে

হবিগঞ্জের ৯০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে-কাটা হয়েছে ২৪ শতাংশ

প্রিন্ট করুন

হবিগঞ্জের সংবাদ অনলাইন ডেস্ক , দুদিন স্থিতিশীল থাকার পর ফের বাড়ছে ধলেশ্বরী নদীর পানি। পাহাড়ি ঢলে বাড়তে থাকা পানি হাওরেও প্রবেশ করছে। ফলে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৯০ হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কাঁচা ও আধাপাকা মিলিয়ে জেলায় মাত্র ২৪ শতাংশ ধান কাটতে পেরেছেন কৃষকরা। এখনো ৭৬ শতাংশ ধান জমিতেই আছে। আবার পানি বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে লাখাইয়ে হয়েছে ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমির আবাদ। শুধু লাখাই সদর ইউনিয়নে হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি আবাদ। কিছু কিছু জমিতে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান পেকেছে। তবে বেশিরভাগ জমির ধান অর্ধেকও পাকেনি।

এদিকে ভারতের আসাম, চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধলেশ্বরী ও কালনী নদীতে পানি বেড়েছে। এতে লাখাই উপজেলার হাওরে পানি প্রবেশ করে বোরো ধান তলিয়ে যেতে থাকে। দুদিন পানি স্থিতিশীল থাকলেও বুধবার ফের বাড়তে থাকলে আরও ২৫ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়। উপজেলায় মোট ৯০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকটে তারা ধান কাটতেও পারছেন না। যে শ্রমিক ১ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এ বছর সে শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

লাখাই কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অমিত ভট্টাচার্য বলেন, লাখাই সদর ইউনিয়নের শিবপুর, সুজনপুর, বারচর, মাদনা, সন্তোষপুর, কামালপুর, রবিরকোণা, নোয়াগাঁও হাওরের ৯০ হেক্টর বোরো জমি পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। আংশিক তলিয়ে গেছে ২০০ হেক্টর জমির ধান। এরইমধ্যে উপজেলায় ৩৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আশেক পারভেজ বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চলের ৯ হাজার হেক্টর জমি ও উঁচু এলাকার ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে নিমজ্জিত হয়েছে মাদনা এলাকার জুয়ারিয়া বিল। এ বিলের ৮৫ শতাংশ ধানই কেটে নেওয়া হয়েছে।


Related Articles

Back to top button
Close