দেশজুড়ে

বানিয়াচংয়ে চাঁদাবাজ জিতু মেম্বারের দৌড়ঝাঁপ

প্রিন্ট করুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ-হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চাঁদা না দেয়ায় বাবা-মেয়েকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ইউপি মেম্বার জিতু মিয়া এবং সহযোগী মাসুক গংরা।

জানা যায়,গত ১৭ এপ্রিল রবিবার ২নং ইউনিয়নের শহীদ উল্লার ছেলে ও ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জিতু মিয়া ও একই এলাকার ইউসুফ উল্লার ছেলে মাসুক মিয়া গংদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন স্থানীয় মহারত্নপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া ও একই এলাকার নির্যাতিতা এক শিক্ষার্থী। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের দিন রাতেই বাড়িতে থালা দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে মেম্বার ও তার সহযোগীরা। এমনকি সংবাদ না করতে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে তদবিরও করছেন মেম্বার জিতু মিয়া।

অভিযোগ ও নির্যাতিত পরিবার সূত্রে জানা যায়,
বৃদ্ধ আফরোজ মিয়া ২নং ইউনিয়নের চানপাড়া মহল্লার দরিদ্র একজন কৃষক। ৩ কন্যা সন্তানের পিতা তিনি।বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না। মেয়েদের নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এরই মধ্যে গত ১১ এপ্রিল সোমবার সকালে রাস্তা নির্মাণের জন্য মেম্বার জিতু মিয়া চাঁদার টাকা দাবী করে বসেন। কিন্তু দরিদ্র কৃষক আফরোজ মিয়া চাঁদার টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে,মেম্বার জিতুসহ তার নেতৃত্বে মাসুক গংরা মিলে তার বসতবাড়িতে ডুকে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।এসময় আফরোজ মিয়ার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে পিতাকে বাঁচাতে তাদেরকে বাধা দিলে,
হামলাকারীরা তাকেও বেধরক মারপিট করে তার স্কুল ড্রেস ছিড়ে অর্ধ-উলঙ্গ করে দেয়। বাপ মেয়ের চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন এগিয়ে আসলে মেম্বার বাহিনী পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা রক্তাক্ত বাপ মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করান।
হামলার বিষয়টি এলাকার মাতব্বরসহ গ্রামের সবাই অবগত থাকলেও শালিসে বসাতে পারেননি ওই প্রভাবশালী দাঙ্গাবাজ মেম্বার জিতু গংদের। মামলা দায়েরের সামর্থ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে হামলার ঘটনা মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বক্তব্য দেন মেম্বার জিতু মিয়া। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বিচার কি পাবে ওই নির্যাতিত পরিবার? দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

অপরদিকে হামলার ঘটনাটি গোপনে তদন্ত করছেন প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়,
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনের পর বিভিন্ন মহল থেকে আমার মুঠোফোনে কল আসছে তথ্যের জন্য। গভীর রাতে সিভিল পোষাকে দুইজন প্রশাসনের লোক এসেছিলেন তথ্য নিতে, যা সত্য সবই বলেছি। দেখা যাক কি হয়। তবে সে ভয় পাচ্ছে আবারো কিনা মেম্বার বাহিনী হামলা চালায় তাদের পরিবারের উপর।


Related Articles

Back to top button
Close