দেশজুড়ে

নবীগঞ্জের দাউদপুরে রাস্তা সংস্কারে ভূমিকা রাখায় সাংবাদিকসহ আদালতে মামলা

প্রিন্ট করুন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ দীঘলবাক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দাউদপুর গ্রামে ৪টি মসজিদ, ১টি প্রাইমারী স্কুল, ১টি পাঁচ মৌজা সম্মিলিত শাহী ঈদগাহ ময়দান ও ১টি সমিতিসহ রয়েছে অনেক গুনীজনের ভিটেবাড়ি। গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের আকাংঙ্খখা ছিল ভবিষ্যত প্রজন্মদের জন্য গ্রামকে উন্নত করতে ১টি রাস্তা সংস্কার করার। কিন্তু কাল হয় কতিপয় লোকজন। তারা বাঁধার মূখে রাখে গ্রামবাসীর কাংখিত স্বপ্ন। একদিকে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।অন্যদিকে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় একটি পরিবার ও কুচক্রীমহল। এনিয়ে প্রায় ১৪-১৫টি সালিশ বৈঠক করেন। এতে বিচারকের ভূমিকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের সাংবাদিক অবস্থান নেন। অবশেষে গত ১১ আগষ্ট গ্রামের বিশিষ্ট বিচারক, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে ওই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র লায়েক নামের যুবক। মামলার খবরে এলাকায় চলছে মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। ঐ গ্রাম ও এলাকার বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে জানা গেছে,-গ্রামের জনসংখ্যা ও ভবিষ্যত প্রজন্মদের কথা চিন্তা করে দাউদপুর কিবরিয়া সড়ক থেকে জালালপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্দ্যোগ নেন গ্রামবাসী। এনিয়ে আপামর জনতার সমন্বয়ে কয়েকটি বৈঠক হয়। রাস্তা পূণঃসংস্কারে সকল ঐক্যমত পোষণ করেন। কিন্তু এর মধ্যে ঐ গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র সফর ও লায়েক গংরা রাস্তা সংস্কারে বিরোধীতা প্রকাশ করে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং রাস্তা সংস্কারে বাঁধা সৃষ্টি করে। সম্প্রতি সে নবীগঞ্জ থানায় কাল্পনিক অভিযোগ দায়ের করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন স্থানীয় ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ সামছুদ্দিনের সমন্বয়ে দীঘলবাক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়ার সভাপতিত্বে টানা ৬ ঘন্টা শালিশ বৈঠকে অনেক আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে ১০ সদস্যের একটি সালিশ বোর্ড গঠন করে পরবর্তীতে সরজমিনে গিয়ে বিষয় মীমাংসা দেবেন। ওই দিনের সালিশ বৈঠকের প্রথমেই উভয় পক্ষের কাছ থেকে মতামত নেয়া হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সালিশনামা ও রেজুলেশন করা হয়। পরে সালিশ বোর্ড দাউদপুর গ্রামের ও ইউপি সদস্য ফকরুল ইসলাম জুয়েলের বাড়িতে দ্বিতীয় বোর্ডে বসেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় গ্রামের রাস্তা করতে কারো কোন বাঁধা আপত্তি থাকবেনা। গত ৭ আগষ্ট সকালে পূর্ববিরোধ নিয়ে তারই আপন চাচাতো ভাই মৃত আপ্তাব মিয়ার পুত্র নূর মিয়ার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র সফর গংরা।এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। এর পর ছলচাতুরী করে সফর ও তার ভাই কৌশল করতে থাকে কিভাবে নুর মিয়া ও গ্রামবাসী লোকজনদের বেকায়দায় ও হয়রানী করতে পারে। গত ১১ আগষ্ট মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র লায়েক বাদি হয়ে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ওই গ্রামের ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি এফআইআর গণ্যে নবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে ইউপি সদস্য ফকরুল ইসলাম জুয়েল, ও সংবাদ প্রকাশের জের ধরে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাহি সদস্য ও দৈনিক আমার সংবাদসহ স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি এম মুজিবুর রহমান ও গ্রামের প্রবীন মুরব্বি ও বিচারকসহ ১৪ জনকে। মামলার খবরে এলাকায় চলছে মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনা। এব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার আসামী ও ইউপি সদস্য ফকরুল ইসলাম জুয়েল বলেন-গ্রামবাসী রাস্তা সংস্কার করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন,তাদের সাথে ঐক্যমত পোষন করায় অবশেষে মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে-মামলার আসামী সাংবাদিক এম মুজিবুর রহমান বলেন-গ্রামবাসীর রাস্তা সংস্কার করায় একটি পক্ষ বিরোধীতা করছিল এমনকি উত্তেজনা বিরাজ করায় আমি কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করি এরই আক্রোশে আমাকে মামলার আসামী করা হয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষক নূর মিয়া জানান-রাস্তা সংস্কারের বিরোধীতাকারী লায়েক মিয়া গংরা ঘটনার দিন তাদের উপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা করে তাদের লোকজনকে আহত কেেরছে এবং একটি টিনশেড গোয়ালঘর ভেঙ্গে টিন বন্টন করে নিয়েছে আরো অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। মামলার বাদি লায়েক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকার সুশীল সমাজের দাবি পুলিশ প্রশাসনের নিবিড় পর্যালোচনা ও সুষ্ট তদন্তে অবশ্যই মামলা থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিরা অব্যাহতি পাবেন। অপরদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গ্রামের গন্যমান্য লোকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় এলাকায় চলছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদ এর সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন-শুনেছি বিজ্ঞ আদালতে মামলা হয়েছে,্ওই গ্রামে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোন ভাবেই নিরপরাধ লোকজন হয়রানী হবেনা ।


এই বিভাগের সর্বশেষ

Back to top button
Close