শিক্ষা সাহিত্য

“গানের আড্ডায় পাগল প্রেমকুমার”

প্রিন্ট করুন

সাংবাদিক সুজন মিয়া।

কাজ নেই,তাই বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম এশিয়ান টেলিভিশনের বানিয়াচং প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেনের সাথে। রাত প্রায় ৮ টা, হঠাৎ একটা ছেলে বয়স আনুমানিক ২৫ এসে হাজির অফিসে।এসেই কাউকে কিছু না বলে একটা চেয়ার নিয়ে, দু পা চেয়ারের উপরে তুলে বসে পড়লো।ছেলেটির চুলগুলো এলোমেলো,হাতের নখগুলো অনেক লম্বা,মূখে রয়েছে গোফ এবং হালকা দাড়ি। গায়ের পোশাকটিও ময়লা এবং ছেড়া। আনোয়ার সাহেবতো অবাক,এ আবার কে প্রশ্ন উনার। আমি বললাম হয়তো পাগল, কিছু খাবার দিয়ে বিদায় করে দেন।তাকে জিজ্ঞেস করা হলো বাড়ী কোথায়,নাম কি,কিছুই বলতে পারলোনা।চেহারায় ক্লান্তির ছাপ।তারপরও সে আমাদের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি মুচকি হাসছে। আধাঘন্টা সময় পর লক্ষ করলাম তাহার চোখে তন্দ্রা নেমেছে। তাহার ঘুমকে তাড়াতে আমি ধরলাম গান,তারপর যা ঘটলো,তার জন্য মোঠেও প্রস্তুত ছিলামনা আমরা।গান ধরলো সে “কি ছিলে আমার বলনা তুমি”আছিতো আগেরই মতো এখনও আমি”
গানটি যখন ছেলেটি গাইছিলো,তখন আমি আর আনোয়ার সাহেব তার দিকে তাকিয়ে আছি বিস্ময়ের চোখে। গান গাইছে ছেলেটি,তাও আবার বিরহের গান। মনে মনে ভাবতেছি হয়তো সে প্রেমে ছেঁকা খেয়ে পাগল হয়ে গেছে। মনে পড়ে গেলো ভারতীয় একটা সিনেমা দেখেছিলাম “চিরদিনই তুমি যে আমার”
সেই সিনেমায় নায়ক সাহেব নায়িকার জন্য এভাবেই পাগল সেজেছিলেন। সিনেমাটির নায়কের চেহারার সাথে এই ছেলেটার সবকিছুর মোটামুটি মিল রয়েছে।ভাবতে ভাবতে গান শেষ,
এখন ছেলেটিকে কিছু খাবার দেয়া উচিৎ,
আনোয়ার সাহেব এবং আমি তখন একটা বিস্কিটের প্যাকেট তাহার দিকে বাড়িয়ে দিলাম।
কিন্তু বিস্কিটের সাথে তাহার চাহিদা একটা ডারবি সিগারেট,সেটাও দেয়া হলো।
পরে তাহার সাথে ছবি তুলে ক্যামেরাবন্ধি হলাম। সে যেহেতু বিরহের গান গেয়েছে, তাই তাহার নাম দিলাম প্রেমকুমার। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে সে প্রেমের পাগল।

পরিশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলতে চাই,এরকম হাজারো পাগল আমাদের চারপাশে রয়েছে। মনে রাখবেন এরাও কোন না কোন মায়ের আদরের সন্তান,কারো ভাই,ছেলে,বন্ধু,আত্মীয় স্বজন। এ কথা বলছি এজন্য যে কিছু এলাকায় দেখেছি পাগল দেখলে লোকজন তাদের পিঠুনি দেয়।তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। আসুন তাদের ভালোবাসা দিয়ে ক্ষনিকের জন্য হলেও আপন করে নেই এবং মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি।


এই বিভাগের সর্বশেষ

Back to top button
Close