রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফেসবুকে উসকানির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার চাকরিচ্যুত

ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূইয়াকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইব্রাহীমকে চাকরিচ্যুতির আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাময়িক বরখাস্তকৃত হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে ‘সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুল ১৯৮৩’-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী তাকে ১৪ জুলাই থেকে চাকরি হতে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করা হলো।’

এর আগে গত ৫ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে ইব্রাহীম আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করার পাশাপাশি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে সময় জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সেখানে বলা হয়েছিল, ইব্রাহীম আলম ভূইয়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠান এবং বিচারপতিদের নামে মিথ্যা কুৎসা রটিয়েছেন।

পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে ইব্রাহীম আলম অন্যান্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, তার এসব কর্মকাণ্ড ১৯৮৩ সালের চাকরিবিধি অনুযায়ী ‘গুরুতর অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি’, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিলেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জয়নাল আবেদীন
বার্তা সম্পাদক: মিজান শরীফ